সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তিঃ
দেশের সকল জেলা, থানা/উপজেলা/ইউনিয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে "দি সকাল বিকাল " এ চীফ রিপোর্টার, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে আগ্রহী প্রার্থীরা আজি যোগাযোগ করুন drsubratabogra@gmail.com । প্রিয় পাঠক আপনিও “দি সকাল বিকাল” নিউজকে পাঠাতে পারেন আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার কথা জানাতে পারেন আপনার অভিজ্ঞতা অথবা আপিও হতে পারেন একজন সাংবাদিক । দি সকাল বিকাল এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আমাদের সাথেই থাকুন
শিরোনামঃ
আত্রাইয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে গেল স্থানীয় এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধ স্থাপনা দখল বাণিজ্য আত্রাইয়ে ব্র্যাকের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত পাঁচবিবিতে গলায় ফাঁস দিয়ে আ’লীগ নেতার আত্মহত্যা চিরিরবন্দরে নারী উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে হত দরিদ্র মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ রাজারহাট উপজেলায় মডেল প্রেসক্লাব এর শুভ উদ্বোধন। উলিপুরে অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণ: ৪মাসের অন্তঃসত্ত্বা,অভিযুক্ত ধর্ষক আটক রাজারহাট উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে ৮০টি ভূমিহীন পরিবারকে ঘরের চাবি হস্তান্তর। সিংড়ায় কাজ শেষ করার আগেই ফাঁটল মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে গাইবান্ধার সুন্দর গঞ্জে মানববন্ধন বগুড়ায় প্রেমের টানে বরিশাল থেকে এসে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়ীতে প্রেমিকার অনশন !!

আজ ২১ নভেম্বর।।সশস্ত্র বাহিনী দিবস

রিপোর্টারের নাম / ৪৫৩ বার
আপডেট সময় শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার , ঢাকা অফিসঃ আজ ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ একটি দিন। এই দিনটি সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।যুদ্ধের বিজয়কে ত্বরান্বিত করতে ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্থাৎ ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ সূচনা করেন। এর ফলে আমাদের বিজয় অর্জন ত্বরান্বিত হয়। আমাদের জাতীয় ইতিহাসে তাই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রযাত্রা এবং বিজয় গৌরবের স্মারক হিসেবে এই দিনটি প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে। এই বছর বাংলাদেশে ৫০তম সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হচ্ছে।
প্রতিবছর শিখা অনির্বাণে পুষ্পমাল্য দিয়ে স্বাধীনতার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি শুরু হয়। যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে দেশে পালিত হয় সশস্ত্র বাহিনী দিবস। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তযুদ্ধের এই দিনে বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করে। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে সম্মিলিতভাবে ২১ নভেম্বরকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে ২৫ মার্চ সেনা, ১০ ডিসেম্বর নৌ এবং বিমান বাহিনী ২৮ সেপ্টেম্বর আলাদাভাবে দিবসসমূহ পালন করত। পরে ২১ নভেম্বরের তাৎপর্য সমুন্নত রাখতে সম্মিলিত দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ পাক হানাদার বাহিনীর তাণ্ডবলীলার জবাবে অস্ত্র তুলে নেয় বিপ্লবী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), পুলিশ, আনসার এবং অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তী সময়ে এগিয়ে আসে পূর্ব পাকিস্তানের কর্মরত বাঙালি নাবিক ও নৌ অফিসার, সেনা ও বিমান কর্মকর্তারা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন সর্বস্তরের মুক্তিপাগল হাজার হাজার বাঙালি। মুজিবনগরে গঠিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার কর্নেল এমএজি ওসমানীকে (পরবর্তী সময়ে জেনারেল) মুক্তিবাহিনীর প্রধান নিয়োগ করে। তার ওপর মুক্তিবাহিনীকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সেনাবাহিনীর অফিসার ও সৈনিকগণ দ্রুত নিজেদের সুসংগঠিত করে পাল্টা আক্রমণ করেন। সারাদেশকে বিভক্ত করা হয় ১১টি সেক্টরে যার নেতৃত্ব প্রদান করা হয় একেকজন সুশিক্ষিত পেশাদার সেনা কর্মকর্তাকে।

মেজর জিয়াউর রহমানকে প্রথম, তৃতীয় এবং অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত জেড ফোর্সের অধিনায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়। মেজর কে এম শফিউল্লাহকে দ্বিতীয় এবং ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত এস ফোর্সের অধিনায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়। আর চতুর্থ, নবম এবং দশম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত কে ফোর্সের অধিনায়ক নিয়োগ দেওয়া হয় মেজর খালেদ মোশাররফকে। এরপরে পাকিস্তানি দখলদারের বিরুদ্ধে অসংখ্য সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। যার নেতৃত্বে দেয় বাংলাদেশ ফোর্সেসের অধীনে এই ১১টি সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড। ৪ ডিসেম্বরে যৌথবাহিনী গঠনের পূর্ব পর্যন্ত এই বাহিনীরা এগিয়ে নেয় মুক্তিসংগ্রাম। এর সঙ্গে যোগ হয় নৌ ও বিমান বাহিনীর শক্তিও। এসব বাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা চট্টগ্রাম ও চালনা বন্দর অকেজো এবং বিমান বাহিনী বিভিন্ন স্থাপনায় বোমা হামলা করে। এসব আক্রমণ ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমান্ডের নেতৃত্বে ৩ ডিসেম্বর চূড়ান্ত অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হয়।
আমাদের মুক্তিসংগ্রাম ছাড়াও যুদ্ধপরবর্তী দেশ গঠনে, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বিদেশে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা আমাদের দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে বারবার। সোমালিয়া, আইভরিকোস্ট, কঙ্গো, লেবানন, হাইতি, সিয়েরালিওন আর লাইবেরিয়াসহ সারা বিশ্বের নানা জায়গায় বাংলাদেশি সশস্ত্র বাহিনী ওইসব দেশের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং শান্তি রক্ষার পাশাপাশি নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে সার্বিক সহযোগিতার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরান শান্তি মিশনে যোগদানের মধ্য দিয়ে এদেশের সেনাবাহিনীর ১৫ জন সদস্য জাতিসংঘের পতাকাতলে একত্রিত হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী শান্তি মিশনে যোগ দেয় ১৯৯৩ সালে। বাংলাদেশ পুলিশ ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ পরিবারের সদস্য হয় নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে সিয়েরালিওন, লাইবেরিয়া, আইভরিকোস্ট, কঙ্গো, হাইতি, লেবানন, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি সশস্ত্র বাহিনী শান্তিরক্ষার পাশাপাশি ওইসব দেশের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং অসহায় মানুষের পুনর্বাসনে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অবদান দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর হয়েছে।বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি রক্ষায় কাজ করছে প্রায় চার দশক ধরে, যা এই এলাকার এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা রক্ষায় অনন্য উদাহরণ। এ ছাড়া সামাজিক উন্নয়ন, রাস্তাঘাট তৈরি এবং দুস্থ মানুষের জন্য কাজ করছে নিরলস বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। নতুন ডিজিটাল বাংলাদেশের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক এবং নিয়মতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ও শ্রদ্ধাশীল থেকে পেশাগত দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রিয় সশস্ত্র বাহিনী তার যাত্রা মসৃণ রাখবে সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সবার প্রত্যাশা।বর্তমান সরকারের ১২ বছরে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে আন্তরিক কর্মযজ্ঞ দেখা গিয়েছে। ইতোপূর্বে ১৯৯৬ সালে এই আওয়ামী লীগ সরকারই তৎকালীন সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করে। পেশাদারিত্ব বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, ওয়ার কলেজ, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজসহ একাধিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জনবল বাড়ানোর জন্য একটি কম্পোজিট ব্রিগেড, একটি পদাতিক ব্রিগেড, স্পেশাল ওয়ার্কস ব্রিগেড ও বেশ কয়েকটি বিভিন্ন ধরনের ব্যাটলিয়ানসহ অন্যান্য উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কক্সবাজারে বিমান বাহিনীর ঘাঁটি উদ্বোধন করা হয় ২০১১ সালের এপ্রিলে।
১৯৭১ সালে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিত হয়েছিল জনতার সঙ্গে। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ক অর্থাৎ জনতা ও সশস্ত্র বাহিনীর পারস্পরিক সুসম্পর্ক আমাদের বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি উদ্দীপক প্রভাব। জাতির প্রয়োজনে অর্পণ করা কঠিন দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীর নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা অনন্য। দেশের প্রতিরক্ষার জন্য প্রশিক্ষণ আর জনগণের জন্য ভালোবাসা এই দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেম।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা একটি আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য তিনি মিলিটারি একাডেমি, কম্বাইন্ড আর্মড স্কুল ও প্রতিটি কোরের জন্য ট্রেনিং স্কুলসহ আরো অনেক সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিট গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে তার সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীকে দেশে ও বিদেশে উন্নততর প্রশিক্ষণ প্রদানসহ আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত

Theme Created By ThemesDealer.Com